সোশ্যাল মিডিয়াতে অশ্লীলতা ও আমাদের যুবসমাজ

অশ্লীলতা

সোশ্যাল মিডিয়াকে অশ্লীলতা প্রচারের মাধ‌্যম হিসাবে ব‌্যাবহার করছে একদল বিপথগামী তরুন-তরুনী।

প্রযুক্তি-বিপ্লবের আধুনিক এ যুগে সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সট্রাগ্রাম পারস্পরিক যোগাযোগের শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপ্তি সব মিডিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে। যে কোন কেউ ঘরের কোনায় বসে মুহূর্তেই তার বার্তা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিতে পারছে। সকাল কিংবা দুপুর, কোনো না কোনো সময় তার ধ্যান-জ্ঞান সোশ্যাল মিডিয়ায় পড়ে আছে যার অধিকাংশই তরুন তরুনী।


আর কিছু মানুষ এখানে অশ্লীলতা, নগ্নতা, যৌনবিকৃতি খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে।; বিনোদনের নামে অশ্লীলতাকে বিস্তার করছে কিছু তরুন তরুনী ও কুচক্রিমহল। এই অশ্লীলতার হাত ধরে নারীদের যৌন হয়রানী করা তো এক ধরনের ফ‌্যাশনে পরিনত হয়েছে।

অভিধান মতে, অশ্লীলতা মানে কুৎসিত, জঘন্য, অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও কদর্য রুচি। সাধারণভাবে বলা যায়, লজ্জাহীনতা, রুচিহীনতা, অসুন্দর, অশোভন—এসবের সামষ্টিক রূপই হলো অশ্লীলতা।

এই অশ্লীলতা বিস্তারের একটি বড় মাধ‌্যম হল সোশ্যাল মিডিয়া এবং যার মধ‌্যে অন‌্যতম ফেসবুক। সোশ্যাল মিডিয়াতে যৌন উদ্দিপক লেখা,ছবি,ভিডিও কিংবা খোলামেলা লাইভ স্ট্রিমিং প্রচার ও প্রসার দিন দিন ব‌্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব কন্টেন্ট শেয়ার করে আবার অনেকে রীতিমত ভাইরাল ও হয়ে গেছেন।
অশ্লীলতা বিস্তারের অন‌্যতম একটি মাধ‌্যম ফেসবুক মেসেন্জার। হুট করেই একজন পুরুষ অপরিচিত একজন মহিলার অইডিতে গিয়েই তার ইনবক্সে সেক্সুয়াল ছবি কিংবা ভিডিও পাঠিয়ে দিচ্ছেন।অবার অনেকসময় খারাপ প্রস্থাব দিয়ে একজন মহিলাকে যৌন হয়রানী করছেন। এরকমটা প্রায় ই হচ্ছে।অনেক ক্ষেত্রে মহিলা/তরুনীরাও এমন আচরন করছে যদিও তার সংখ‌্যাটা নগন‌্য। অনেকে আবার মেসেন্জার গ্রুফ করে যৌন আলাপ করছে ও পর্নো ভিডিও শেয়ার করছে।

আরো পড়ুন:- পবিত্র কুরআন থেকে মোটিভেশন | হতাশায় শান্তির পরশ!

ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম লাইভ স্ট্রিমিং অশ্লীলতা ছড়ানোর আরেকটি মাধ‌্যম।লাইভে এসে একজন যুবতী অশ্লীল পোষাক পরিধান করে তার বিশেষ অঙ্গকে সবার সামনে তুলে ধরছে সাথে সাথেই তরুনরা হুমরি খেয়ে দলে দলে যোগ দিচ্ছে। আর এসবের মাধ‌্যমেই যৌবনের সাধ পাচ্ছে কিছু বিপথগামী তরুন। এটা যেন একটা প্রথায় রুপান্তরিত হয়ে গেছে এবং দিন দিন এর পরিসর ব‌্যাপকভাবে বৃদ্বি পাচ্ছে। এসব লাইভ করে অনেক যুবতী রীতিমত সেলেব্রেটি হয়ে গেছে।

আরেকদল লোক আছে যারা ট্রলের নাম করে বিভিন্ন যৌন উদ্দিপক ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করছে। যারা এসবকে প্রচার করছে নিছক মজার জিনিস হিসাবে। বর্তমান সময়ে এটার পরিসর হুর হুর করে বাড়ছে। বিভিন্ন খারাপ লেখা কিংবা চিত্রকে তারা হালকা ঘষামাজা করে চালিয়ে দিচ্ছে ট্রল বলে।
নারী স্বাধীনতার নাম করে আবার কেউ কেউ অশ্লীল পোষাক পড়ে নিজেকে হাজির করছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেক বড় বড় নারীবাদীও এই মন্ত্র ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাদের লেখনী ও ছবির মাধ‌্যমে আর তাদের অনুসরনও করছেন আবার কিছু লোকজন।

তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ‌্যে একজন আরেকজনকে গালিগালাজ করা,চটি গল্প শেয়ার করা,সেক্সুয়াল ছবি শেয়ার করা, ১৮+ পাব্লিক গ্রুফ করাসহ ব‌্যাপক ব‌্যাপক অশ্লীলতায় ডুবে আছে কিছু বিপথগামী ছেলে মেয়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীলতার প্রভাব বাস্তবজীবনেও লক্ষ‌্য করা যায়। এসব অশ্লীলতায় আসক্ত যুবক যুবতীরা একধরনের বিকৃত যৌনতার দিকে অগ্রসর হয় ফলশ্রুতিতে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের দিকে যেতেও পিছপা হয়না কেউ কেউ। মোটকথা সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীলতার প্রভাবে যিনা, ব‌্যাভিচার, বেহায়াপনা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ সংঘটিত হওয়া ব‌্যাপকভাবে বৃদ্বি পেয়েছে।

আরো পড়ুন:- ফেসবুকে এখন থেকে চ্যাট ছেড়ে উঠার পরপরই বার্তা ডিলিট হয়ে যাবে !


সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্লীলতা দূর করা সময়ের দাবী।এর জন‌্য সরকারসহ ব‌্যাবহারকারী সবাইকে সচেতন হতে হবে। ব‌্যাক্তি নিজে অশ্লীলতাকে পরিহার করবে এবং অন‌্যকে এ বিষয়ে সচেতন করবে। উল্টাপাল্টা কিছু দেখলে রিপোর্ট করতে হবে। সরকারকে সচেতন থাকতে হবে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব‌্যাবহারের নীতিমালা বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ব‌্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে নীতির্নিধারকদের কঠোর ব‌্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে তবেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অশ্লীলতা দুর হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*