ফ্রিল্যান্সিং বনাম চাকরী | ক্যারিয়ার হিসেবে কতটা কার্যকর ফ্রিল্যান্সিং?

ফ্রিল্যান্সিং

বাংলাদেশের মত দেশ যেখানে চাকরির বাজারে বেশ প্রতিযোগীতা ও চাকরীর বাজার বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে ৪৭% শিক্ষিত যুবক/যুবতী বেকার, পর্যাপ্ত চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হয় না আবার অধিকাংশই পছন্দসই চাকুরী এবং বেতন পান না।তারা অনলাইনে ক‌্যারিয়ার গড়া অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং হল গতানুগতিক চাকুরীর বাইরে অর্থাৎ অন‌্যের অধিনস্থ না হয়ে অনলাইনে নিজের ইচ্ছামত কাজ করা ও সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করা।

সম্মানিত পাঠকবৃন্দ আজ আমরা গতানুগতিক চাকরি ও ফ্রিলান্সিং এর তুলনামূলক আলোচনা করব যার ফলে আপনি নিজেই বুঝতে সক্ষম হবেন কোনটি আপনার প্রযোজ্য! চাকরি নাকি ফ্রিল্যান্সিং?

১) সময়ের স্বাধীনতা

যখন আপনি চাকুরীজিবী: আপনি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী করেন কিংবা সরকারী চাকরী করেন অবশ‌্যই আপনাকে সময়মত অফিসে যেতে হবে এবং নির্ধারীত সময়েই ফিরতে হবে।সেক্ষেত্রে অনিয়ম করলে আপনাকে সাজার মুখুমুখি হতে হবে।আপনি ইচ্ছা করলেই দিনের কাজ রাতে করতে পারবেন না।ধরেন আপনার সময় সকাল ৮টা থেকে সন্ধ‌্যা ৬টা।আপনাকে ওই সময়টাতেই কাজ করতে হবে।

যখন আপনি ফ্রিল্যান্সার: ফ্রিল্যান্সিং মানেই মুক্ত পেশা।অর্থাৎ আপনি সবকিছু থেকে মুক্ত।আপনি যখন ইচ্ছা তখন তখন কাজ করবেন এটা আপনার একান্ত নিজের ইচ্ছা।শুধু সময় অনুযায়ী বায়ারের কাজ জমা দেয়াটাই আসল কাজ। সেটি দিনে করা হচ্ছে নাকি রাতে সেটা আপনি
নিজেই বুঝবেন।অন‌্য কাউখে আপনার কাজের জন‌্য জবাবদিহী করতে হবে না।আপনি আপনার সময়কে কিভাবে ব‌্যাবহার করবেন কিংবা উপভোগ করবেন সেটা আপনার একান্তই নিজের ব‌্যাপার।

ফ্রিল্যান্সিং

২) নিজেই নিজের বস

যখন আপনি চাকুরীজিবী: আপনি যখন কোন প্রাইভেট কোম্পানি কিংবা সরকারী কোন প্রতিষ্টানে চাকরী করবেন তখন অবশ‌্যই আপনার কাজের জন‌্য উচ্ছপদস্থ কর্মকর্তার কাছে জবাবদিহী করতে হবে।অর্থাৎ নিজেকে বস ভাবার বা বস হওয়ার কোন সুযোগ নেই।সেক্ষেত্রে আপনাকে কিছু নিয়মের ভেতরে থাকতে হবে। যেকোনো কাজের ভুলের কারণে বসের মুখ থেকে অপমানজনক বকাঝকা শোনা চাকরীর একটা অংশ যা অনেকেই মেনে নিতে পারেনা।

যখন আপনি ফ্রিল্যান্সার: আপনি নিজেই নিজের বস তখন।আপনার কাজের জন‌্য কাউখে জবাবদিহী করতে হবেনা। আপনার চাহিদা, প্রয়োজন আনুযায়ী কাজ করতে পারেবেন যখন ইচ্ছা হবে তখন আপনি বিরতী দিতে পারবেন কিংবা ইচ্ছা হলে কাজ বন্ধ রাখতে পারবেন সেটা আপনার ইচ্ছা।

ফ্রিল্যান্সিং
Image Copyright Unplash Photo

৩) ইচ্ছের স্বাধীনতা

যখন আপনি চাকুরীজিবী: আপনি চাইলেই আপনার খেয়াল খুশিমত চলতে পারবেন না।আপনার ইচ্ছা হল আজ সমুদ্রবিলাস করবেন ১০দিনের জন‌্য কাজ ছেড়ে ঘুরে আসবেন সেটা কিন্তু সম্ভব না।চাকুরীতে কিছু নিয়মনীতি থাকে যা আপনাকে অবশ‌্যই মেনে চলতে হবে।
আপনি চাইলেই যেকোন কিছু করতে পারবেন না।অর্থাৎ চাকুরীজিবী হিসাবে আপনার ইচ্ছের স্বাধীনতা খুব কম।

যখন আপনি ফ্রিল্যান্সার: যেহেতু আপনি ইচ্ছামত কাজ করতে পারেন সেহেতু এখানে আপনার ইচ্ছের স্বাধীনতা ১০০%।

Freelacing | YouthUp BD

The Evolution of Pornography | Documentory Video 2020

এবার আসুন জানা যাক ফ্রিল‌্যান্সিং এর আরো কিছু সুযোগ সুবিধা:-

১) কাজের জন‌্য কোন যাতায়ত করতে হবে না।
২) আপনার বাসায় বসে কাজ করতে পারবেন।
৩) সহকর্মীদের সাথে ডিল করতে হবে না।
৪) হাস্যকর কর্পোরেট সিদ্ধান্তগুলি গ্রহণ করতে হবে না।
৫) কাজের / জীবনের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

শেষ কথা: আপনি ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে আপনাকে। আপনি ফ্রিল্যান্সিং করবেন না চাকরী করবেন সেটা নির্ভর করবে আপনার ইচ্ছার উপর আপনার স্কিলের উপর।সর্বোপরী আপনি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন আপনি কি হিসাবে প্রতিষ্টিত হতে চান।