ম্যালেরিয়া জ্বর ও কালাজ্বর হলে করনীয়

আজ আমরা ম্যালেরিয়া জ্বর ও কালাজ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব!


ম্যালেরিয়া জ্বর
ম্যালেরিয়া জ্বর খুব পরিচিত একটি রোগ। বাংলাদেশ ও ভারতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশী ছিল । তবে আজকাল
বহুলাংশে ম্যালেরিয়া জ্বর কমিয়া গিয়াছে।
ম্যালেরিয়া জ্বর **প্লাজমোডিয়াম” নামক এক প্রকার প্রটোজোয়া মানবদেহে ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগের প্যারাসাইট গুলি ম্যালেরিয়া রোগীর শরীরে বিদ্যমান থাকে । স্ত্রী জাতীয় এনোফিলিস মশা আক্তান্ত রোগীকে দংশন করিলে এ রোগ জীবাণু মশার দেহে প্রবেশ করে।


রোগের লক্ষন
১। রোগী শীত শীত অনুভব করে, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়, প্রবল কম্প দিয়ে জ্বর আসে। রোগী এত বেশী কাঁপিতে থাকে যে লেপ, কম্বল
দিয়ে চাপা দিলেও কম্পন বন্ধ হয় না এবং মাথা ব্যথা থাকে, বেদনা থাকে, এমন অবস্থায় বেশ কিছুক্ষন স্থায়ী থকে ।
২। রোগীর দেহের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে!
খাবার ও চিকিৎসাঃ
১। বেশী অসুবিধা হইলে বরফ বা ঠাণ্ডা পানি দ্বারা হাত-পা, শরীর স্পঞ্জ করে দিতে হবে।
২ বেশী জ্বরে মাথায় প্রচুর পানি দিতে হইবে ॥
৩। ম্যালেরিয়া হইলে রক্ত পরীক্ষায় MP Test পজেটিভ (+ve) হইবে ।
৪। জ্বর বৃদ্ধি পাইলে বমি হইতে পারে তাই গরম পানির সাথে লেবুর শরবত দিতে হবে!


কালাজ্বর
কালা+জ্বর » কালাজ্বর। এই রোগে শরীরের রং কালো হইয়া যায় বলে উহাকে কালাজ্বর বলে! কালাজ্বর এর জীবাণু
মানবদেহে কিভাবে প্রবেশ করে তার সঠিক তন্তু এখনও আবিস্কৃত হয় নাই ।বর্তমানে আমাদের দেশে এই রোগের প্রকোপ নাই
বলিলেই চলে।
কালা জ্বর রোগের কারন একটা প্রোটোজোয়া । স্যান্ডফ্লাই নামক এক প্রকার মাছির দ্বারা এই রোগের বিস্তার ঘটে । আবিস্কারকের
নাম অনুসারে এই পরজীবীর নামকরণ করা হয় লিসম্যানিয়া ডোনভ্যানি। গ্রীস্মপ্রধান দেশে সচরচার কালাজ্বরের প্রাদুর্ভাব বেশী।


রোগের লক্ষল সমুহঃ
১। কালাজ্বরে আক্রান্ত রোগীর প্রধান লক্ষন হইল জ্বর, পরে শ্লীহা ও যকৃত বৃদ্ধি পায়।
২॥ সকল সময় জ্বর কিন্তু জ্বরের তাপমাত্রাও অধিক হয় না।
৩॥ অল্প অল্প হয় এবং উহা বহুদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
৪। দীর্ঘদিন ভুগীয়া রোগী নিতান্ত দুর্বল এবং রক্তহীন হয় ।


খাবার ও চিকিৎসাঃ
১। ক্ষুধা বেশী হইলে খাবার অল্প খাইবে, বেশী খাইলে পেট খারাপ হইতে পারে ।
২। তরল খাবার হিসাবে বার্লি, এরারুট, ফলের রস, হরলিক্স জাতীয় খাবার দিতে হয় ॥
৩। কাগজী লেবুর রস খাইলে উপকার হয়।
৪। স্যান্ফ্লাই মাছি ধ্বংসের জন্য গ্যামাক্সিন ছিটাতে হইবে।

Leave a Comment